সাইকোসোমাটিক ডিজঅর্ডার সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন

সাইকোসোমাটিক ডিজঅর্ডার সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন এই আর্টিকেলে। মানুষের মন ও শরীরে একে অপরের সাথে গভীরভাবে জড়িত। আমরা যখন খুশি থাকি শরীর হালকা লাগে আবার দুশ্চিন্তা বা ভয় হলে বুক ধরফর করে মাথাব্যথা হয় পেট খারাপ হয়। এই মন এবং শরীরের সম্পর্কে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি ধারণা হলো সাইকোসোমাটিক ইফেক্ট বা সাইকোসোমাটিক ডিসঅর্ডার। এই আর্টিকেলে আমরা বিস্তারিতভাবে জানবো সাইকোসোমাটিক ইফেক্ট কি, কেন হয়, কি কি লক্ষণ দেখা দেয়, কিভাবে নির্ণয় ও চিকিৎসা করা হয় এবং কিভাবে এটি প্রতিরোধ করা যায়। 

পেজ সূচিপত্রঃসাইকোসোমাটিক ডিজঅর্ডার সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন 

  • সাইকোসোমাটিক ডিজঅর্ডার সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন 
  • মন ও শরীরের বৈজ্ঞানিক সম্পর্ক
  • কেন সাইকোসোমার্টিক প্রবলেম হয়
  • চিকিৎসা পদ্ধতি
  • সাইকোসোমাটিক সমস্যা প্রতিরোধের উপায়
  • কখন ডাক্তারের কাছে যাবেন
  • শেষ কথা

সাইকোসোমাটিক ডিজঅর্ডার সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন 

সাইকোসোনেটিক ইফেক্ট হলো এমন এক ধরনের অবস্থা যেখানে মানসিকভাবে আবেগ জনিত সমস্যা শরীরে শারীরিক উপসর্গ হিসেবে প্রকাশ পায়। এখানে ব্যথা অস্বস্তি বা অসুস্থতা বাস্তব হলেও তার মূল কারণ মানসিক চাপ দুশ্চিন্তা ভয় বা আবেগ জড়িত অস্থিরতা। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এটি কোন ধান বা কল্পনা নয় রোগের কষ্ট একেবারে বাস্তব।

সাইকো(psyche)মানে মন এবং সোমা(soma) অর্থ শরীর। সহজ ভাবে বলা যায়,সাইকোসোমাটিক ডিসঅর্ডার বা সাইকোসোমেটিক ইফেক্ট হলো মনের প্রভাব শরীরে পড়া। আমাদের মস্তিষ্ক শরীরের সব অঙ্গ প্রত্যঙ্গ নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। যখন আমরা মানসিক চাপ অনুভব করি তখন মস্তিষ্ক থেকে ট্রেস হরমোন যেমন করটিছল ও এড্রেনালিন নিঃসৃত হয়। 

এই হরমোন গুলো স্পন্দন বাড়ায়, রক্ত চাপ বাড়ায়,হজম প্রক্রিয়া  ধীরগতি করে দেয়, পেশীতে টান সৃষ্টি করে। দীর্ঘদিন ধরে এ অবস্থায় চলতে থাকলে শরীরে নানান রকম সমস্যা দেখা দেয়। সবচেয়ে সাধারণ উপসর্গ গুলো হল দীর্ঘদিন মানসিক চাপ থাকলে মাথা ব্যথা হয়। ভয় বা উদ্যোগের সময় হৃদস্পন্দন বেড়ে যায় ফলে বুক ধরফর বা শ্বাসকষ্টের সমস্যা দেখা দেয়। পেশির ব্যথা টেনসনে ঘাড় কাঁধ বা পিঠে ব্যথা হতে পারে,অতিরিক্ত ট্রেসের কারণে ত্বকের বিভিন্ন রকম সমস্যা যেমন চুলকানি,র‍্যাশ বা ব্রণ বাড়তে পারে।

মন ও শরীরের বৈজ্ঞানিক সম্পর্ক

না বলা কষ্ট- দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি

দীর্ঘ দিনের সয়ে নেয়া অপমান- বুক ধরফর অস্বস্তি

দীর্ঘদিনের সিদ্ধান্তহীনতা- মাথাব্যথা, ইনসোমনিয়া

লুকানো ঈর্ষা-হজমের সমস্যা 

অপরাধবোধ- ইমিউনিটি সিস্টেম দুর্বল

অতিরিক্ত দায়িত্ব- ঘাড় ও কাঁধ শক্ত হয়ে যাওয়া

বারবার ভাঙ্গা আত্মসম্মান- হরমোনাল ভারসাম্যহীনতা

চাপা রাগ- ত্বকের সমস্যা

দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ- স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগ কমে যাওয়া

পরিবারের চাকরিদের ষড়যন্ত্রে প্রতিনিয়ত পারিবারিক কলহের কারণে হারিয়ে যাচ্ছে সম্পর্কের সরলতা।

মিথ্যে অভিযোগের সীমাহীন চাপে আন্তরিকতা চাপা পড়ে যায়। মিথ্যে অভিযোগের অসহ্য যন্ত্রণায় আত্মহননের মত ভুল পথ বেছে নেয় অনেকে।   

এছাড়াও শরীরের কিছু অদ্ভুত লক্ষণ দেখা যায় 

বেশি হাই তোলা-শরীরে অক্সিজেনের ঘাটতি হলে। 

দুর্গন্ধযুক্ত শ্বাস- পেটের সমস্যা হলো।

কানে শো শো আওয়াজ-উচ্চ রক্তচাপ থাকলে।

বেশি চুল পড়া-আয়রনের ঘাটতি হলে।

 পা ফুলে যাওয়া- হার্ট অথবা কিডনির সমস্যা হলে।

রাতে পায়ে টান ধরা-ম্যাগনেসিয়াম এর ঘাটতি হলে।

মাথাব্যথা-পানি শূন্যতা।

হাত-পা ঠান্ডা থাকা- রক্ত সঞ্চালন কম হলে।

 জিহবা জালা পোড়া করা- ভিটামিন বি এর ঘাটতি হলে।

কোন কিছুর গন্ধ কম পাওয়া বা ঘ্রাণ শক্তি কমে যাওয়া- জিংক এর ঘাটতি হলে।

মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়া- ভিটামিন সি এর ঘাটতি হওয়া।

অতিরিক্ত ক্লান্তি- ভিটামিন ডি এর অভাব হলে।

মাথা ঘোরা- রক্তে শর্করার পরিমাণ কম থাকা।

চোখ হলুদ হওয়া- লিভারের সমস্যা হলে।

নারীদের ক্ষেত্রে সাইকোসোমাটিক সমস্যাঃ হরমোনাল সমস্যা, অনিয়মিত পিরিয়ড, মাথা ব্যথা, ক্লান্তি এসব বাড়তে পারে।

শিশুদের ক্ষেত্রেঃ শিশুরা অনেক সময় প্রকাশ করতে পারে না। সাইকোসোমাটিক সমস্যা হলে তারা পড়তে চায় না ফলে স্কুলে যাওয়ার আগে পেট ব্যথা, পরীক্ষা ভীতি, ঘন ঘন অসুস্থতার অভিযোগ করে, এসবই সাইকোসোমাটিক সমস্যা হিসেবে দেখা দিতে পারে। 

কেন সাইকোসোমেটিক প্রবলেম হয়

দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ থাকলেঃ অর্থনৈতিক সমস্যা পারিবারিক কলহ কাজের চাপ ইত্যাদি থাকলে এ ধরনের সমস্যা দেখা দেয়।

দমন করা আবেগঃ অনেকে রাগ কষ্ট বা হতাশা প্রকাশ করেন না দীর্ঘদিনএ কষ্টগুলো জমিয়ে রাখলে পরবর্তীতে এই সমস্যাগুলো দেখা দিতে পারে।

ট্রমা বা অতীতের আঘাতঃ শৈশবের মানসিক আঘাত বড় হয়ে শারীরিক উপসর্গ হিসেবে দেখা দিতে পারে অথবা সংসার জীবনের অতীতের আঘাত পাওয়ার কারণে এ ধরনের সমস্যা হতে পারে।

উদ্বেগ ও বিষন্নতাঃ অনেক সময় ডিপ্রেশনের কারণে এসব শারীরিক প্রকাশ ঘটে। 

চিকিৎসা পদ্ধতি

কাউন্সিলিং ও থেরাপিঃ কগনিটিভ বিহেভিয়ার থেরাপি(CBT) খুব কার্যকর। 

ট্রেস ম্যানেজমেন্টঃ মেডিটেশন যোগব্যায়াম গভীর শ্বাস নেওয়ার অনুশীলন করা।

জীবনযাত্রার পরিবর্তন করা

নিয়মিত ঘুম স্বাস্থ্যকর খাবার নিয়মিত ব্যায়াম করা।

ওষুধ গ্রহণঃ স্বাভাবিকভাবে সমস্যার সমাধান না হলে প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে এবং আন্টি ডিপ্রেশন বা অ্যান্টিঅ্যাংজাইটির ঔষধ দিলে তা সঠিক নিয়মে গ্রহণ করা উচিত। 

সাইকোসোমার্টিক সমস্যা প্রতিরোধের উপায় 

সাইকোসোমার্টিক সমস্যা প্রতিরোধ করা যায়। প্রতিরোধ করতে হলে যে সমস্ত বিষয়গুলো মেনে চলতে হবে-

আবেগ প্রকাশ করুনঃ মনের কথা বলুন। মনের কথা চেপে রাখবেন না।

নিয়মিত ব্যায়াম করুন কারণ ব্যায়াম ট্রেস হরমোন কমায়। 

সময় ব্যবস্থাপনাঃ অতিরিক্ত কাজের চাপ কমান।

পর্যাপ্ত ঘুমঃ প্রতিদিন ৭ থেকে ৮ ঘন্টা ঘুমান।

সামাজিক সংযোগ বজায় রাখুনঃ পরিবারের সদস্যদের সাথে সময় কাটান এবং ভালো বন্ধুদের সাথে সদ্ভাব বজায় রাখুন। 


কখন ডাক্তারের কাছে যাবেন

উপসর্গ দীর্ঘদিন থাকলে,হঠাৎ তীব্র ব্যথা হলে,দৈনন্দিন কাজে মনোযোগ ব্যাহত হলে,ঘুম ও খাওয়ার সমস্যা বাড়লে,দেরি না করে অতি দ্রুত চিকিৎসা নিন। 

সমাজের ভুল ধারণা অনেকে বলেন তা তেমন কিছুই না সব মনের ভুল এই ভুল ধারণা থেকেই মানুষের কষ্ট আরো বেড়ে যায় কারণ মানসিক কষ্ট শারীরিক কষ্টের মতই বাস্তব। তাই এ সমস্ত সমস্যা দেখা দিলে অতিসত্বর চিকিৎসা নেওয়া জরুরী।

শেষ কথা

সাইকোসোমাটিক ডিজঅর্ডার সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে সচেতন হওয়া প্রয়োজন। মানুষের মনের প্রভাব দেহের উপর পড়ে। মন ভালো থাকলে দেহ ভালো থাকে এবং যে কোনো কাজ খুব ভালো ভাবে করা যায়। অস্থির মন ও অসুস্থ দেহ হলে তা সফলতার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তাই সকলেরই সুস্থ দেহ ও সুস্থ মনের যত্ন নেয়া উচিত।  

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

hiramonsdream er নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url